দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, সম্মান ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গড়ে ওঠে। ইসলাম দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে সদাচরণেরও শিক্ষা দিয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নিজের দাম্পত্য জীবনেও স্ত্রীদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও তাঁদের গুণের স্বীকৃতির একাধিক দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এমন পাঁচটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো।
১. খাদিজা (রা.)-এর কথা স্মরণ ও প্রশংসা
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি তাঁকে প্রায়ই স্মরণ করতেন এবং প্রশংসা করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর স্ত্রীদের মধ্যে খাদিজা (রা.)-এর প্রতি যতটা ঈর্ষা অনুভব করেছি, অন্য কারও প্রতি ততটা করিনি। কারণ, রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁকে প্রায়ই স্মরণ করতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন।’ (সহিহ বুখারি: ৫২২৯)
একই বর্ণনায় খাদিজা (রা.)-কে জান্নাতে একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দেওয়ার কথাও এসেছে। এতে বোঝা যায়, প্রিয় স্ত্রীর গুণ ও অবদানের স্বীকৃতি দিতে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর মধ্যে কোনো সংকোচ ছিল না।
২. খাদিজা (রা.)-এর বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরা
রাসুলুল্লাহ (স.) খাদিজা (রা.)-এর মর্যাদাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘পৃথিবীতে স্ত্রীদের মধ্যে (সে যুগে) শ্রেষ্ঠ ছিলেন মারইয়াম বিনতে ইমরান এবং (এ যুগে) শ্রেষ্ঠ হলেন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ।’ (সহিহ মুসলিম: ২৪৩০)
খাদিজা (রা.)-এর ঈমান, ত্যাগ ও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি সহযোগিতার যে মর্যাদা ছিল, এই বক্তব্যে তার স্বীকৃতি পাওয়া যায়।
৩. আয়েশা (রা.)-কে নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হিসেবে উল্লেখ
একবার আমর ইবনুল আস (রা.) রাসুলুল্লাহ (স.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ‘মানুষের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে?’ তিনি বলেন, ‘আয়েশা।’ এরপর জিজ্ঞেস করা হয়, ‘পুরুষদের মধ্যে?’ তিনি বলেন, ‘তার বাবা।’ (জামে তিরমিজি: ৩৮৮৬)
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ্যে স্বীকার করার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (স.) যে স্বচ্ছন্দ ছিলেন, এই হাদিস তার একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত।
৪. আয়েশা (রা.)-এর বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ
হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘পুরুষদের মধ্যে অনেকে পূর্ণতা অর্জন করেছেন। নারীদের মধ্যে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া এবং ইমরানের কন্যা মারইয়াম পূর্ণতা অর্জন করেছেন। আর নারীদের ওপর আয়েশার মর্যাদা এমন, যেমন অন্যান্য খাবারের ওপর সারিদের মর্যাদা।’ (সহিহ বুখারি: ৩৪১১)
এখানে রাসুলুল্লাহ (স.) হজরত আয়েশা (রা.)-এর বিশেষ মর্যাদা স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন। স্ত্রীর গুণ ও মর্যাদাকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
৫. দানশীলতার মর্যাদা প্রকাশ
রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর স্ত্রীদের একবার বলেছিলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা, সে আমার সঙ্গে সবচেয়ে দ্রুত মিলিত হবে।’
এরপর স্ত্রীদের মধ্যে হাত মাপা হলে সাওদা (রা.)-এর হাত সবচেয়ে লম্বা পাওয়া যায়। পরে বোঝা যায়, ‘লম্বা হাত’ বলতে শারীরিক দৈর্ঘ্য নয়, দানশীলতাকে বোঝানো হয়েছিল। সাওদা (রা.) দান-সদকা করতে ভালোবাসতেন। শেষ পর্যন্ত তিনিই রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সবার আগে ইন্তেকাল করেন। (সহিহ বুখারি: ১৪২০)
এই বর্ণনায় সরাসরি প্রশংসাবাক্য না থাকলেও দানশীলতার মতো একটি মহৎ গুণকে বিশেষভাবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
কেএম